অভিন্ন নদীর পানির অধিকার প্রশ্নে ১৯৭৬ সালের ফারাক্কা লংমার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে শনিবার সকালে রাজধানীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বাংলাদেশের নদী, পরিবেশ, জীবন-জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় ১০ দফা দাবি পেশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নদী শুকিয়ে কৃষি ও জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের শিক্ষা অনুসারে নদী বাঁচানোর মাধ্যমেই দেশ বাঁচানো সম্ভব বলে তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নের সময় ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ সংযোজন, তিস্তা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য আন্তসীমান্ত নদীর ন্যায্য হিস্যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে ১৬ মে ঐতিহাসিক লংমার্চ দিবসকে ‘জাতীয় পানি অধিকার দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে জনপরামর্শ ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচিতে পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, নদী কেবল পরিবেশ নয়, এটি একটি প্রাণসত্তা। নদীকে শুধু কিউসেক সংখ্যায় ভাগ করা যায় না। ফারাক্কা বাঁধের ফলে বাংলাদেশ যেমন বারবার পানির সংকট ও বন্যার শিকার হচ্ছে, তেমনি এটি ভারতের জন্যও কোনো সুফল আনেনি, বরং উভয় দেশের জন্যই বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
এই সংকট উত্তরণে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বাইরে গিয়ে ভুটান ও নেপালকে অন্তর্ভুক্ত করে অববাহিকাভিত্তিক আঞ্চলিক পানি চুক্তি স্বাক্ষরের তাগিদ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী সবার স্বার্থ রক্ষা করে রাষ্ট্রকে মেরুদণ্ড শক্ত করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান বক্তারা।
এএলআরডি, রিভারাইন পিপল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, নাগরিক উদ্যোগ, গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, স্টেপ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, বাপা, প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও গবেষকরা এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে অভিন্ন নদীর ওপর সব ধরনের বাঁধ বা ব্যারেজ অপসারণ এবং ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানান।


