পদ্মা নদীর মাঝখানে ডুবোচরে আটকে পড়া একটি লঞ্চের ৮৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ আসা কল এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় মাঝনদীর ঘুটঘুটে অন্ধকার আর অথৈ পানির আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেয়েছেন নারী ও শিশুসহ সব যাত্রী।
শনিবার রাতে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাট থানার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্বে থাকা দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত পৌনে ৮টায় দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে ‘এমভি বোয়ালি’ পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে পদ্মা নদীর মাঝখানে ‘কুশিহাটা’ নামক একটি ডুবোচরে লঞ্চটি আটকে যায়। চারিদিকের অন্ধকার ও নদীর প্রবল স্রোতে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে লঞ্চে থাকা দুজন আতঙ্কিত যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে উদ্ধার করার অনুরোধ জানান। কল দুটি রিসিভ করেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল তানজিদ ও কনস্টেবল রানা।
৯৯৯ থেকে বিষয়টি দ্রুত নৌ-পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া নৌ-থানাকে জানানো হয়। উদ্ধারকাজের সার্বিক সমন্বয়ে যুক্ত ছিলেন ৯৯৯-এর পুলিশ ডিসপাচার এসআই শরীফুল ইসলাম ও এসআই আনিসুর রহমান।
খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌ-থানার পুলিশ দল উদ্ধারকারী ট্রলার এবং দুটি স্পিডবোট নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর, ট্রলার ও স্পিডবোটের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করে ‘এমভি চিশতিয়া’ নামক অন্য একটি লঞ্চে তুলে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ রাত সাড়ে ১১টায় নৌ-পুলিশের সহায়তায় সব যাত্রী নিরাপদে পাটুরিয়া লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছান।


