ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০ জনে।
মঙ্গলবার ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতা জারি করেছে। অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মারা যাওয়া দুই শিশুর একটি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সি ছেলে আয়ান। অপরজন ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সি মেয়ে আদিবা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু দুটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তারা মারা যায়।
চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা না দিলে শিশুদের নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টিসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ফরিদপুর অঞ্চলে হামের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘হামের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুদের নিয়মিত টিকার আওতায় আনতে হবে। টিকাই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।’
তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট চালু করা হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালেও বিশেষ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন বলেন, ‘চলমান বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে আসবে।’


