নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবার একটি বাসায় বিস্ফোরণে এক পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে এই বিস্ফোরণ হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এতে দগ্ধরা হন, আব্দুল কাদের (৫০) ও তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও তার যমজ ভাই রাকিব (১৬)। গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনটিতে তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকেন আব্দুল কাদের। সোমবার সকালে তাদের বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। তীব্র শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে দৌড়ে গিয়ে দেখেন বাড়িটির দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে।
ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় তারা একে একে বের হচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসার লাইনের লিকেজের কারণে জমে থাকা গ্যাস অথবা ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদীর ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ ও রাকিবের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালীও দগ্ধ হয়েছে। চারজনেরই অবস্থা গুরুতর। তাদেরকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, আব্দুল কাদেরের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলায়। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক। তার ছেলে মেহেদি হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করে এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করে। ঘটনার সময় ৩ ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে রোববার ফতুল্লায় আরও একটি বাসায় লাইনের লিকেজ থেকে জমা গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তারা সবাই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


