উচ্চশিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে সেই স্বাধীনতা যাতে এমন পর্যায়ে না যায়, যাতে দেশে আবারও ‘হলি আর্টিজানে’র মতো ঘটনা ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)’।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়াদি সরকার অবশ্যই দেখভাল করবে। ইউজিসি নিয়ন্ত্রকের নয় বরং অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবে। তবে প্রতিদিন সব বিষয়ে নাক গলাবে না। উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিতের স্বার্থে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিকে ফ্রিডম দিতে হবে। তবে সেই ফ্রিডম যাতে এমন পর্যায়ে না যায়, যাতে দেশে আবারো ‘হলি আর্টিজানে’র মতো ঘটনা ঘটে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিকে জঙ্গি কারখানা হতে দেওয়া যাবে না।’
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের অবস্থিত ‘হলি আর্টিজান’ নামের একটি বেকারিতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের অধিকাংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। একই বছর ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের কাছে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাতেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার ঘটনা প্রকাশ পায়।
এরপর জঙ্গিবাদের সঙ্গে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার ‘হাব’-এ পরিণত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘৮০ এর দশকে মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের সঙ্গে পড়েছে। এখন আমরা যাই মালয়েশিয়ায় পড়তে। বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই সেখানে পড়তে যান শিক্ষার্থীরা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। যাতে সবাই আমাদের এখানে পড়তে আসে।’
আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মান খুব ভালো। আবার অনেকগুলোর ক্ষেত্রে মান উন্নত করতে হবে। মান উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা ও ইউজিসির তত্ত্বাবধান থাকবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এপিইউবি’র সভাপতি সবুর খান। তিনি ইউজিসিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক নীতিগতভাবে ইউজিসিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি রাখার বিষয়টিকে যৌক্তিক দাবি বলে অভিহিত করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স থাকা উচিত না। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে।’ এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিইইচডি চালু করার পক্ষেও মতামত দেন তিনি।
এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন উপাচার্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পার্থক্য না করার কথা জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘দেশের ১৭৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর সবাইকে সমান চোখে দেখে ইউজিসি। তবে উচ্চশিক্ষা শুধু কর্মসংস্থানের জন্য হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ সার্বিকভাবে জ্ঞানোৎপাদন করা। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নৈতিক ও মানসিকভাবে আলোকিত করা। এই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’


