আগামী ১০ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’। পুলিশের সবচেয়ে বড় এই বার্ষিক আয়োজনে সরকারের বর্তমান ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিফলন হিসেবে অনুষ্ঠানসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে।
অতীতের সাত দিনের পরিবর্তে এবার অনুষ্ঠান হবে মাত্র চার দিন। একই সঙ্গে ইভেন্টের সংখ্যা ও আমন্ত্রিত অতিথির তালিকাও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এমনকি পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যাও এবার বিগত বছরগুলোর তুলনায় কমিয়ে আনা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত করেছে, এবারের পুলিশ সপ্তাহে ১১৫ জন সদস্য পদক পেতে যাচ্ছেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পুলিশের সম্মিলন অনুষ্ঠানটি বাদ দেওয়া হলেও এবার সেটি আয়োজনের তালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে রাজারবাগসহ পুলিশের কোনো স্থাপনায় এবার আলোকসজ্জা করা হবে না। খাবারের মেন্যুতেও পরিবর্তন এনে তা সীমিত করা হয়েছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাটি এবার সূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্যারেডে অংশ নেওয়া পদকপ্রাপ্ত সদস্যগণ ব্যতীত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদের নিচের কোনো কর্মকর্তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।
এবারের অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, পুনাক বার্ষিক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলন, আইজিপি সম্মেলন, শিল্ড প্যারেড এবং আইজি’জ ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠান।
এ ছাড়া এসবি, সিআইডি ও পিবিআইয়ের বিশেষ উপস্থাপনা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে সম্মেলন, অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্মিলনী এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে মূল প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে দরবার বা সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচিত পুলিশ কর্মকর্তারা নির্ধারিত বিষয়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, অসমসাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর পুলিশ সদস্যদের বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুসরণ করে এবার ১১৫ জন সদস্য এই সম্মাননা পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে ২৪টি কমিটির মাধ্যমে পদকপ্রত্যাশীদের প্রোফাইল যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই বছর রেকর্ড সংখ্যক ৪০০ পুলিশ ও র্যাব সদস্যকে সম্মানজনক পদক দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে ১১৭ জন এবং ২০২২ সালে ২৩০ জন এই পদক পেয়েছিলেন, যদিও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার অনেকের পদক বাতিল করে।
গত ২০২৫ সালে পুলিশ সপ্তাহ সাত দিনের পরিবর্তে মাত্র তিন দিনে (২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে) নামিয়ে আনা হয়েছিল এবং তখন কোনো প্যারেড, প্রতিযোগিতা কিংবা সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের আয়োজন ছিল না। সেই তুলনায় এবার সীমিত পরিসরে হলেও প্যারেডসহ গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাগুলো ফিরে আসছে।


