পিরোজপুরের নেছারাবাদে আট বছর আগে মিলন বাহাদুরকে হত্যার পর মরদেহ গুমের মামলায় মো. তাজিম (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় মরদেহ গুমে সহায়তা করায় তাজিমের মা রেহানা বেগমকে (৫০) সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
হত্যার দায়ে পলাতক আসামি তাজিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, মরদেহ গুমের অপরাধে রেহানাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তার আরও তিন মাসের কারাদণ্ড হবে। রায় ঘোষণার সময় রেহানা আদালতে ছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে নেছারাবাদের বয়ারহুলা স্ট্যান্ড থেকে মিলনের মোটরসাইকেল ভাড়া করেন তাজিম ও তার এক সহযোগী। রাতে মিলন বাড়ি না ফেরায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে থাকেন।
নিখোঁজের দুই দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি মিলনের বাবা শাহাদত বাহাদুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তীতে ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাজিমের বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তে জানতে পারে মিলনকে হত্যার পর তাজিম তার মায়ের সহযোগিতায় মরদেহটি সেখানে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে নেছারাবাদ থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। তদন্ত শেষে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় দেওয়া হলো। রায়ে অপর দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।


