পিরোজপুরে ড্রাগন চাষ করেই বছরে কয়েক লাখ টাকা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই জেলায় বাণিজ্যিকভাবেই ড্রাগন চাষ করছেন জেলার কৃষকরা। শুরুতে শখের বশে চাষ শুরু করলেও, ভালো ফলন এবং ফলটির ব্যবসা বেশি লাভজনক হওয়ায় দিন দিন ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন অনেক কৃষক।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৫০ দশমিক ৫৭ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে।
নিজস্ব আগ্রহ থেকেই পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার তুষখালির ছোট মাছুয়া গ্রামের হুমায়ুন কবির ৩০০ চারা দিয়ে প্রথমে ছোট পরিসরে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। এখন প্রায় চার একর জমিতে সাত হাজারের মতো ড্রাগন গাছ রয়েছে তার।

কবিরের বাগানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ড্রাগন গাছের পিলারে লাল, হলুদ, সবুজ, গোলাপি, বেগুনি, এই পাঁচ রঙের ড্রাগন চাষ হয়। প্রতিটি পিলারে রয়েছে ৪টি করে ড্রাগন গাছ। এই গাছ লাগানোর ১৮ থেকে ২০ মাসের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। বছরে সাত মাসই এই গাছে ফল ধরে এবং ১৫ দিন পর পর তা তোলা যায়।
রং ও আকার ভেদে প্রতি কেজি ড্রাগন ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা যায়। আর কবিরের এই বাগান থেকেই বছরে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে শখের বসে ড্রাগন চাষ শুরু করলেও ভালো লাভ পেয়ে এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করি। এই বাগানে চার-পাঁচটি পরিবারের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। আমার ড্রাগন চাষ দেখে এলাকার অনেক মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তাদেরকেও আমি ড্রাগনের চারা এবং পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।’
একই এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কবিরের ড্রাগন বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি তার কাছ থেকে চারা এবং পরামর্শ নিয়ে ছোট পরিসরে চাষ করা শুরু করেছি। ভালোই লাভ হচ্ছে। এখন বাগান আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. রেজাউল হাসান বলেন, ‘ড্রাগন চাষ লাভজনক হওয়ায় এ কাজে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফলটি বৈদেশিক অর্থ উপার্জনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তাই, ড্রাগন চাষের পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জেলার কৃষকদের অবহিত করছে কৃষি বিভাগ।’


