টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে জেলা শহরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক তলিয়ে যায়। ফলে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে তাহিরপুরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি ঢল বাড়লেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, সিলেট এবং ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
এরইমধ্যে সুরমা, বৌলাই ও রক্তি নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৭৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে বর্তমানে নদীটির পানি বিপদসীমার প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপদসীমা স্পর্শেরও আশঙ্কা রয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বাড়ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটার পানি বেড়ে সুনামগঞ্জ তাহিরপুর সড়কের ১০০ মিটার অংশ ডুবে গেছে এতে করে এই সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে আরো ৪৮ ঘন্টা। তাহিরপুর উপজেলার পর্যটন এলাকায় এই সময়ে পর্যটক আসার আগে খোঁজ খবর নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছে প্রশাসন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সকালে পানির স্রোত কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। তবে পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির পরিমাণ: মাউসিনরামে (মেঘালয়) ৫২৬ মি.মি, মাওকিয়াতে (মেঘালয়) ৩৮৫ মি.মি, চেরাপুঞ্জিতে (মেঘালয়) ৩৩২ মি.মি, কোচবিহারে (পশ্চিম বঙ্গ) ২২২ মি.মি, জলপাইগুড়িতে (পশ্চিম বঙ্গ) ১৪৩ মি.মি, মাওফ্লাং (মেঘালয়) ১৩৪ মি.মি, পাসিঘাটে (অরুণাচল প্রদেশ) ১১৭ মি.মি ও খিলহরিয়াতে (মেঘালয়) ১১৫ মি.মি।


