মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টি এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর চট্টগ্রামের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কাদা, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে মঙ্গলবার দুপুরে আকবর শাহ সংলগ্ন ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর এবং শান্তিবাগসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজ নেন এবং ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান।
তিনি সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের মাঝে নিজেই শুকনা খাবারের প্যাকেট ও মিনারেল ওয়াটার তুলে দেন। শিশুদের সুরক্ষায় ও অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তিনি সাথে থাকা সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবন রক্ষাই এখন প্রধান লক্ষ্য, তাই গভীর রাতে পাহাড়ধসের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে কোনো অবস্থাতেই যেন কেউ পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে ফিরে না যান। তবে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশাসন দলগতভাবে তদারকি করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে প্রায় ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। পাহাড়গুলোকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম এবং প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন।
গত সোমবার রাত থেকেই আকবর শাহ, বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল, মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনি ও আমবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বর্তমানে প্রস্তুত রাখা আটটি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১১০ জন, ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুলে ৪০ জন, ইলমুল কোরআন মাদ্রাসায় ৫০ জন এবং আল হেরা মাদ্রাসায় ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বাকি অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাসায় নিরাপদে অবস্থান করছেন। ১ নম্বর ঝিল এলাকা সমাজ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন জেলা প্রশাসকের এই সরাসরি মাঠ পরিদর্শনের আন্তরিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে, পাহাড়ের পাদদেশের ছিন্নমূল মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, শহরের মধ্যে পর্যাপ্ত সরকারি খাসজমি নেই। শহরের বাইরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও কর্মসংস্থান ও সন্তানদের পড়াশোনার কারণে অনেকে যেতে চান না। তবে কেউ স্বেচ্ছায় পুনর্বাসনে যেতে আবেদন করলে সরকারি খাসজমি পাওয়া সাপেক্ষে ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
অতীতের ভয়াবহ পাহাড়ধসের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করার অপেক্ষা না করে আগাম সতর্কতা, দ্রুত খাদ্য-পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জেলা প্রশাসনের সরাসরি মাঠে উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


