পার্বত্যাঞ্চল পিছিয়ে থাকলে বাংলাদেশও এগোবে না বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেছেন, ‘সরকার কোনো জাতি, কোনো সম্প্রদায় কিংবা কাউকে বঞ্চিত রাখতে চায় না। কোথাও বৈষম্য থাকবে না, কোনো সম্প্রদায় পিছিয়ে থাকবে না। পার্বত্যাঞ্চল যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে।’
সোমবার বিকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে বিঝু, বৈসু, সাংগ্রাই, সাংলান, বিষু ও চাংক্রাই মেলার উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, রাঙামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রধান অতিথি বেলুন ও ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গরিয়া নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

চার দিনব্যাপী এ মেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, নাটক মঞ্চায়ন, ঐতিহ্যবাহী পাজন রান্না এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।
মেলায় বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী ও খাবারের ১১০টি স্টল বসানো হয়েছে। মেলা শেষ হবে ১০ এপ্রিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির কিছু অংশ সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ঐতিহ্যকে সামনে আনতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাউকে ফেলে রেখে নয়, সব জাতি ও সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই সরকার এগিয়ে যাবে।’
‘পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বিঝু প্রধান সামাজিক উৎসব। এই উৎসবের মাধ্যমে পারস্পরিক মিলন ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।’

দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোনো সমস্যা থাকলে সরকার তা সমাধানে উদ্যোগ নেবে এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করবে।
সভায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুপ কুমার চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব এবং সদর জোন কমান্ডার কর্নেল একরামুল রাহাত।
স্বাগত বক্তব্য দেন রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমা।


