পারস্য উপসাগরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশে বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকট চলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী ৭ এপ্রিল রূপপুর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরা শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুন মাসের মধ্যে এটি তার মোট সক্ষমতার ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।
কারিগরি বাধা ও সাময়িক স্বস্তি
ব্লুমবার্গের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই গ্রীষ্মে কাজ শুরু হলেও কেন্দ্রটি পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে আরও প্রায় এক বছর সময় নিতে পারে। রাশিয়ার রোসাটম কর্পোরেশনের দেওয়া দুটি এক দশমিক দুই গিগাওয়াট ক্ষমতার ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর নিয়ে এই প্রকল্প গঠিত। তবে প্রকল্পটি অনেক বাধার মুখে পড়েছে। বর্তমান বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত করার কারিগরি সমস্যা এবং রাশিয়া থেকে মালামাল আসতে দেরি হওয়ায় এর কাজ পিছিয়ে যায়। আগের সরকারের আমলে এটি গত বছরের শুরুতেই চালু হওয়ার কথা ছিল।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে মোট সক্ষমতার আংশিক বা অল্প পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও তা সংকটে থাকা বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় স্বস্তি হবে। বর্তমান ঘাটতি মেটাতে সরকার খোলা বাজার থেকে ১১ কার্গো এলএনজি কেনার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে আগামী তিন মাসের জন্য গ্যাসের একটি মজুত গড়ে তোলা হবে। কিছু এলএনজি সাশ্রয়ী দামে কেনা সম্ভব হলেও, আমদানির উচ্চ খরচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও টাকার মানের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস কেন্দ্রে হামলার পর এলএনজির দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই কারণেই পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই আসে গ্যাস থেকে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে গ্রীষ্মকালে দেশটিতে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই নতুন সরকার এখন দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মার্চ মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ তার পারমাণবিক লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাথে একটি নতুন সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ২০৫০ সালের মধ্যে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ। সিপিডি পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি স্টাডির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় কয়লা, গ্যাস ও তেলের ব্যবহার অনেক কমিয়ে আনা হবে। এর বদলে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার অনেক বাড়ানো হবে।


