পানিতে দূষণ: গবেষকদের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার বৈঠক রোববার

পানিতে দূষণ: গবেষকদের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার বৈঠক রোববার
Advertisement
Advertisement

ঢাকা ওয়াসার পানিতে ফার্মাসিউটিক্যালস, কীটনাশক এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক দূষণের নমুনা পাওয়া গেছে-গত বুধবার এই সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য আগামী রোববার গবেষকদের ঢাকা ওয়াসা অফিসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ওয়াসার জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের টাইমস অব বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গবেষণার প্রক্রিয়া এবং ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানান জন্য গবেষণা প্রতিবেদন ও এসংক্রান্ত নথিসহ গবেষকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ওই গবেষকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

মূলত সুইডেনের উমিয়া ইউনিভার্সিটি এর যৌথ সহযোগিতায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গবেষক এই গবেষণায় সম্পৃক্ত ছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘পানিতে রাসায়নিক দূষণ’ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তারা।

গবেষকরা জানান, ঢাকা ওয়াসার আটটি জোন থেকে পানির স্যাম্পল সংগ্রহ করে সুইডিশ ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় পানিতে পিফাস, কীটনাশক ও ফার্মাসিউটিক্যালস পাওয়া গেছে; যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী কেমিক্যাল কন্টামিনেশন। এমনকি সেমিনারের পর তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছেও প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন

কিন্তু গত বুধবার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মাহবুব কবির মিলন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এই বিষয়ে স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিত যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এরপর ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে গবেষণায় অংশ নেওয়া শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম বলেন, ‘আমরা নথি প্রস্তুত করছি। রোববার বিস্তারিত নথি ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করব।’

গবেষণার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাফটিং স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা ওয়াসার এলাকাভুক্ত মাত্র ৮টি জোনের পানি সংগ্রহ করে গবেষণাটি করা হয়েছিল। ঢাকা ওয়াসাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি ইন-ডেপথ গবেষণার অনুমোদন দিত। তাহলে আর ৮০০ স্থানের পানির নমুনা পরীক্ষা করা হতো। তখন আরও বিস্তারিত জানা যেতো।

একইসঙ্গে সমাধানের বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া যেতো। আন্তর্জাতিক গবেষকদলের সঙ্গে এবং তাদের ফান্ডেই গবেষণাটি সম্পন্ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ আগ্রহ না দেখানোয় আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad