বিশ্ব নেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখেও গাজা সিটি পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্তে অটল ইসরায়েল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, এ নিয়ে ক্ষুব্ধ দেশগুলো ইসরায়েলকে পিছু হটাতে পারবে না।
ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এতে নতুন করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
ঘোষণার পর জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, ফ্রান্স, চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলকে নিন্দা জানায়। সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি স্থগিত করেছে জার্মানি। যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া হুমকি দিয়েছে, পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে নিষেধাজ্ঞা দেবে।
যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এ পদক্ষেপ গাজার বিপর্যয় বাড়াবে এবং ভূখণ্ড দখল বা বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।
ইসরায়েলের ভেতরেও বিরোধিতা উঠেছে। সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা এবং গাজায় আটক জিম্মিদের পরিবার বলছে, এ সিদ্ধান্ত জীবিত বন্দিদের আরও ঝুঁকিতে ফেলবে। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সরকার তা উপেক্ষা করছে। সমালোচনার জবাবে কাৎজ বলেন, ‘আমাদের শত্রুরা আমাদের একতাবদ্ধ, শক্ত মুষ্টির মতো খুঁজে পাবে। সেই হাত তাদের ওপর প্রবল আঘাত হানবে।’
ইসরায়েলের পরিকল্পনার পাঁচ মূলনীতি হলো–হামাসকে নিরস্ত্র করা, সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা, গাজা উপত্যকা সামরিকীকরণমুক্ত করা, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা এবং হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ছাড়া একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠন। এসব ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে ইসরায়েলি বাহিনী।


