মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সহায়তার জন্য ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) প্ল্যাটফর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মাইলফলক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুম-২ এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘পাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, সুরক্ষা এবং সহায়তার’ জন্য ডিজাইন করা এনআরএম এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশন বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান। আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, আইজিপি বাহারুল আলম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন খান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান বিশ্বব্যাপী গুরুতর ও উদ্বেগজনক অপরাধ। ট্রানজিট এবং গন্তব্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। বাংলাদেশ সরকার সর্বদা এ অপরাধ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। আমরা এ বিষয়ে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করেছি।’
পাচারের শিকার ব্যক্তিরা মানসিক আঘাত, শোষণ এবং সামাজিক বর্জনের সম্মুখীন হন। যদিও সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবা প্রদানকারী উভয়পক্ষই সহায়তা প্রদান করে, সমন্বয় এবং সময়োপযোগী রেফারেলের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডিজিটাল এনআরএম তৈরি করেছে। এ প্ল্যাটফর্মটি ভুক্তভোগীদের আরও কার্যকরভাবে শনাক্তকরণ, অনুমোদিত পরিষেবা প্রদানকারীদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ এবং একটি কাঠামোগত কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের অধীনে দ্রুত রেফারেল সেবা প্রদানে সক্ষম হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘একটি একক ডিজিটাল কাঠামোর অধীনে পরিষেবাগুলোকে একীভূত করা, এনআরএম সমন্বয় বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নত এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় জবাবদিহিতা জোরদার করবে। এরই মধ্যে সিস্টেমটির পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশে ভুক্তভোগী কেন্দ্রিক পরিষেবা প্রদানকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে রূপান্তরমূলক সম্ভাবনা প্রদর্শন করবে।
সরকার মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- মানবপাচারের অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা এবং ২০২৬-২০৩০ সালের জন্য মানবপাচার সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন; নতুন টিআইপি রিপোর্টিং ও প্রত্যাবাসন ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পাশাপাশি সিআইডিতে একটি বিশেষ তদন্ত ইউনিট প্রতিষ্ঠা; পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য তদন্ত নির্দেশিকা প্রবর্তন এবং সকল প্রাসঙ্গিক অংশীদারদের জন্য ভিকটিম শনাক্তকরণ নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করণ।


