ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটানো চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের সমঝোতা বা অগ্রগতির আশা করছে পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে গত বুধবার থেকে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছান। তারা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা ইরানের নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেনাপ্রধান মুনির মূলত দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
পাকিস্তান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দূতের কাজ করছে। আলোচনার প্রধান বিষয় হলো–ইরান কত দিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে এবং তাদের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম নিয়ে কী করা হবে। দুই পক্ষ এই মেয়াদ ৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রাখার বিষয়ে দরকষাকষি করছে। পাকিস্তান আশা করছে, তারা তেহরানকে এই শর্তে রাজি করাতে পারবে।
মধ্যস্থতাকারীরা মূলত তিনটি বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করছেন–ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, তেলের বাজার অস্থিতিশীল করা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে ইরানে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ২ মার্চ থেকে এই যুদ্ধে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতে লেবাননে ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ায় ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা বন্ধ থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এখনো থামেনি।
চুক্তির পথে বাধা দূর করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর করছেন। তবে, ইসরায়েল এই শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিন হবে ‘অবিশ্বাস্য’ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার পথে’। হোয়াইট হাউসও চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী এবং পরবর্তী আলোচনা সম্ভবত ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনা চললেও উত্তেজনা এখনো কমেনি। মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে নয়টি জাহাজ আটকে রেখেছে। ইরান একে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং হুমকি দিয়েছে, অবরোধ না তুললে তারা লোহিত সাগরসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক পথও বন্ধ করে দেবে।


