ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার খসড়া আইনে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। স্থানীয় সময় বুধবার ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে ২৫-২৪ ভোটে প্রস্তাবিত খসড়াটি পাস হয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আইনটি কার্যকর হতে পার্লামেন্টে আরও তিন দফা ভোটের প্রয়োজন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসরায়েল সফরের সময়ে এই ভোট আয়োজন করে দেশটির সংসদ। যদিও এর এক মাস আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে পশ্চিম তীরকে সংযুক্তির অনুমতি দেবেন না।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির পথে প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে ‘ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব’ আরোপের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এমন পরিপ্রেক্ষিতে আইনটি ইসরায়েলের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি সৃষ্টি করেছে।
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকা একই ভৌগলিক অংশ যার ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।’
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসও তেলআবিবের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে। ফিলিস্তিনের কোনো অংশ ইসরায়েলের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছে সংগঠনের নেতারা।
অবশ্য বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলে সংযুক্ত করা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ২০২০ সালে তিনি পশ্চিম তীর নিয়ে ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’ বাতিলও ঘোষণা করেন।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও সম্প্রতি নেতানিয়াহু সরকারকে সতর্ক করে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করাকে ‘লাল রেখা’ (রেড লাইন) হিসেবে উল্লেখ করে।
ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর দখল করে। অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃত। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস) গত বছর পশ্চিম তীর বিষয়ক এক রায়ে জানায়, অধিকৃত অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি দখল ও বসতি স্থাপন বেআইনি এবং যত দ্রুত সম্ভব এসব বসতি প্রত্যাহার করতে হবে।


