পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিতে হামলার শিকার প্রাথমিক শিক্ষকেরা

পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিতে হামলার শিকার প্রাথমিক শিক্ষকেরা
বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকেরা | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তালা ঝুলিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের সময় কয়েকটি স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন শিক্ষকেরা।

বৃহস্পতিবার কয়েক জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষকেরা পরীক্ষা নিলেও অনেক জায়গায় পরীক্ষা হয়নি।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে গিয়ে গেটের তালা ভেঙেছেন। শিক্ষকেরা পরীক্ষা নিতে বাধা দিচ্ছে না কাউকে। তবে নিজেরা পরীক্ষার ডিউটি করছেন না।

তারা আরও জানিয়েছেন, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের গেটে কর্মবিরতিতে থাকা একজন শিক্ষকের সঙ্গে একজন অভিভাবকের মারামারি হয়েছে।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বনওয়ারিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বহিরাগতদের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন আরেকজন শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার চতুর্থ দিনে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অনেক স্থানে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেন সহকারী শিক্ষকেরা।

আরও পড়ুন

অনেক জায়গায় শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষার ডিউটি করেননি। পরীক্ষা না নেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু স্থানে অভিভাবকদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে শিক্ষকদের।

একদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চাপ, অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের সঙ্গে সম্পর্ক অবনমনের সম্ভাবনায় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে ভাবছেন শিক্ষক নেতারা।

তবে দাবি বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন ‘শিক্ষকদের সম্মানের’ বিষয় হয়ে পড়েছে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে সম্মানের সঙ্গে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার সুযোগ দেবে বলে আশা করছেন তারা।

শিক্ষকদের ওপর ‘বহিরাগতদের’ হামলার ঘটনায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।

তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনলাইনে শিক্ষকদের একটা বৈঠকের কথা রয়েছে। এরপর সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে রাতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ভার্চ্যুয়ালি আরেকটি বৈঠক হবে।’

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ও ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর একটি যৌথ অনলাইন বৈঠকে অভিভাবকদের ক্ষোভের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে।

সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ম ও ১৬তম বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকেরা।

তবে আন্দোলনের মধ্যে চার শিক্ষক নেতাকে ‘শোকজ’ করা হয় শিক্ষা অফিস থেকে। শিক্ষকরা ‘শোকজ’ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad