দীর্ঘ জটিলতার পর অবশেষে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) শিক্ষা ক্যাডারের ৩২তম ব্যাচ থেকে ৩৫তম ব্যাচের ১ হাজার ৮৭০ জন প্রভাষককে।
চাকরিতে প্রবেশের এক যুগের বেশি সময় পর প্রথম পদোন্নতি পেলেন ৩২তম ও ৩৩তম ব্যাচের ৪০৫ জন কর্মকর্তা। ৩৪তম ব্যাচের ক্ষেত্রে চাকরি জীবনের ১০ বছর এবং ৩৫তম ব্যাচের ক্ষেত্রে ৮ বছর পর একমাত্র পদোন্নতি এটি।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায়ের ১ হাজার ৮৭০ কর্মকর্তাকে ষষ্ঠ গ্রেডে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে যোগদান করে আগের পদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ৩৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ৩২ তম ব্যাচ থেকে ৩৭তম ব্যাচ পর্যন্ত সবারই পদোন্নতি হবে। তবে চারটি ব্যাচকে একসঙ্গে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাটিও অনেক বড়। এতে সবাই খুশি। যে দুটি ব্যাচের পদোন্নতি হয়নি, আশা করি তাদেরও দ্রুত পদোন্নতি হবে।’
২০২৪ সাল নাগাদ ৩৭তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি সম্পন্ন হলেও, ৩২তম থেকে ৩৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া ঝুলে ছিল। পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিন থেকেই আলোচনা, আন্দোলন ও মামলা মোকাবিলা করে আসছিলেন এই ছয় ব্যাচের প্রায় ২ হাজার ৪০০ প্রভাষক। অবশেষে গত রোববার থেকে ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচিতে যান তারা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ব্যাচভিত্তিক চার ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। একসঙ্গে চার ব্যাচের ১হাজার ৮৭০ জন প্রভাষকের পদোন্নতির ঘটনাকে শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাসে একটি বড় পদোন্নতির ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষকরা।
পদোন্নতির পর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির (ডিপিসি) সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইন কর্মকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দ্রুত ৩৬তম এবং ৩৭তম ব্যাচের পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে প্রভাষক পরিষদ। একই সঙ্গে সব কর্মসূচি স্থগিত করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যেতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রভাষক পরিষদের বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিরা।


