ভারতের তামিলনাড়ুতে জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) এবং তামিলনাড়ু পুলিশের কঠোর সমালোচনা করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ।
এ ঘটনার পর রাজনৈতিক সভা বা কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের নির্দেশনাও দিয়েছে আদালত। শুক্রবার আদালতে এ বিষয়ে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সেন্থিল কুমার।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল এবং তার পরবর্তী ভিডিওগুলো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ধরনের ঘটনায় জনসাধারণ এবং শিশুদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়া বড় ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।’
বিচারপতি আরও বলেন, ‘পুলিশ কেন মামলা করতে পারেনি, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। যদি কেউ অভিযোগ না করে, তবুও পুলিশকে মামলা করতে হবে।’
এমন দুর্ঘটনার পর মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজ্য বা জাতীয় সড়কে রাজনৈতিক সমাবেশ, রোড শো বা অন্যান্য জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত জানিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) না জারি করবে, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
এদিকে, পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের পুরো প্রতিবেদন সিটের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বিজয়ের জনসভায় পদপিষ্টের ঘটনার পরপরই এ ধরনের কর্মসূচির জন্য এসওপি তৈরির আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থে মাদ্রাজ হাইকোর্টে চারটি মামলা দায়ের করা হয়। সেসব মামলার শুনানিতে শুক্রবার আদালতকে আশ্বস্ত করে রাজ্য জানিয়েছে, এসওপি চূড়ান্ত না-হওয়া পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের জনসমাগমের অনুমোদন দেওয়া হবে না।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করেন থালাপতি বিজয়। সেই সমাবেশ ঘিরে ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পর্দার তারকা থালাপতি বিজয়কে একনজর দেখতে অনেকে মঞ্চের ব্যারিকেডের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ৪১ জন।
তামিলনাড়ু পুলিশ জানায়, জনসভাস্থলের ধারণক্ষমতা মাত্র ১০ হাজার হলেও সেদিন সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এ ঘটনার পর টিভিকে প্রধানের জনসভা কর্মসূচি দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়।


