আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও ঢাকা-৬ ও ঢাকা-১৩ আসনে মাঠপর্যায়ের প্রচার এখনো তেমন গতি পায়নি। রোববার এই দুই নির্বাচনী আসন ঘুরে দেখা গেছে–বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটভুক্ত প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা সীমিত আকারে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং ছোট পরিসরের সমাবেশ করছেন।
ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত একটি জনসভা করেছে। একই দিনে ওই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন একটি ইনডোর আলোচনা সভায় অংশ নেন। তবে এই আসনে অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য প্রচারণা দেখা যায়নি।
ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক একটি পদযাত্রা করেন এবং ওয়াক্ত নামাজের পর মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সমর্থকেরা দিনব্যাপী লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করে প্রচারণা চালান। তবে, ববি হাজ্জাজ নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের সমাবেশে দলের সূত্রাপুর থানা আমির দাইয়ুস সালেহিন উপস্থিত জনতাকে ‘জামায়াত প্রার্থী আবদুল মান্নান ও ইসলামের পক্ষে’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি তাদের ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ।
ঢাকা-১৩ আসনের একটি মসজিদে মতবিনিময় সভায় মামুনুল হক বলেন, দেশে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন এবং সাহসী ইসলামী আলেমদের সংসদে যেতে হবে, যারা অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন রাজপথে জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এখন সেই কণ্ঠ সংসদে নিতে চাই। এতে দেশ উপকৃত হবে এবং ইসলামের পতাকা সমুন্নত থাকবে।’
এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতদুষ্ট, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল বা মানহানিকর তথ্য তৈরি, প্রকাশ বা প্রচারও নিষিদ্ধ।
সমাবেশে উপস্থিত অলি আহমদ বলেন, তাদের প্রতিপক্ষরা দিল্লির ‘দাস’। তিনি ‘মোদির এজেন্টদের’ সমর্থন করলে নিপীড়নের শিকার হতে হবে বলে মন্তব্য করেন এবং তথাকথিত দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এই দুই আসনে জামায়াত ও তাদের ১১-দলীয় জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীরা এসব বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তাদের প্রতিপক্ষরা তা থেকে সরে গেছে।
রোববার জতীয়তাবাদী আইনজীবীবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত এবং তা নির্বাচনী সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর বক্তব্যে সহিংসতার ইঙ্গিত রয়েছে। বিএনপি সংঘাত চায় না, তবে উসকানি দিলে পিছু হটবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের কাছে সুযোগ চেয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে তিনি কোনো কাজ করবেন না।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আমাদের প্রতিবেদক সংগ্রহ করা শনিবারের এক আলোচনায় ববি হাজ্জাজের স্ত্রী রাশনা ইমাম বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করা ধর্মের অবমাননার শামিল।
তিনি বলেন, ‘যারা প্রচারণায় ধর্ম ব্যবহার করেন এবং নারীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন না, তাদের কাছ থেকে কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়।’
তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান এবং নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ভোট চান।


