নির্বাচন গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। এই ভিত্তি গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করবে এবং সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনবে। বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন এখনো পূর্ণতা পায়নি, সে লক্ষ্য অর্জনের যাত্রা এখান থেকে শুরু হবে।’
মঙ্গলবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, ‘এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি গণভোটও। সংস্কার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণ তাদের মতামত জানাতে পারবে। এর ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন রূপে শুরু হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দমন করতে যুক্তি ও তর্কের বদলে হত্যাচেষ্টার মতো সহিংস পন্থা নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত। এতে কোনো বীরত্ব নেই।’
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘শক্তি থাকলে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সামনে যাওয়ার পথ সবার জানা।’
‘প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, নতুন বাংলাদেশে তার কোনো স্থান নেই। এই সরকার তখনই সফল হবে, যখন সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার এবং সংস্কারের যে লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা যাবে’, যোগ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা। মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য একটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে। সেই শক্তিকে প্রতিহত করার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘সরকার শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে আছে। তবে জনগণকে ভীত করার একটি প্রচেষ্টা চলছে। জনগণের সুরক্ষায় সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে।’


