বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয় এমন অভিযোগ তুলে কমিশনের পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তারা কোন কোন দাবি তুলে ধরেছেন সেসব কথা জানান নাহিদ। সেসময়ই তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানিয়ে এসেছেন।
এর আগে বিকাল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে যমুনায় যান এনসিপির চার নেতা। নাহিদ ছাড়াও প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, স্বচ্ছ নয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের যেভাবে কাজ করার কথা ছিল সেটি তারা করছে না। আমরা বলেছি যে, কিছু দলের প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত রয়েছে, কিছু দলের প্রতি তারা বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। তারা কীভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে সেসব বিষয়ও আমরা বুঝিয়ে বলেছি।’
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয় গত বছরের ২১ নভেম্বর। সেদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে কমিশন গঠন করে দেন তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাছউদ, সাবেক যুগ্ম সচিব বেগম তহমিদা আহমদ এবং অবসরারপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন এনসিপির নেতারা। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ না পাওয়ার দায় তারা বারবারই নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপাচ্ছেন। এনসিপির নেতাদের দাবি, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এনসিপিকে তাদের পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে না।
নাহিদ আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তার দায় বর্তাবে সরকারের ওপর। আর সে কারণেই আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন হওয়া উচিত।’
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলেছেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা বলেছি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই সই করব। আমরা একটি সাংবিধানিক আদেশের কথা বলেছি, যেটাতে প্রধান উপদেষ্টাকেই সই করতে হবে। সাংবিধানিক এই আদেশ যেহেতু সংবিধান বহির্ভূতভাবে দিতে হবে, তাই সেটা প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পারবেন না। এটা মুহাম্মদ ইউনূসকেই দিতে হবে। এ বিষয়টি আমরা উনাকে বুঝিয়ে বলেছি।’
এছাড়া জনপ্রশাসন ও উপদেষ্টা পরিষদের বিষয়ে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে বদলি-পদায়ন কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে তা আমরা জানতে চেয়েছি। প্রশাসনে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে বলে শুনতে পাচ্ছি। উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা করছে বলে আমরা জানতে পারছি। এভাবে চললে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। উপদেষ্টাদের যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রয়েছে তাদের বিষয়ে যেন প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেন সেই কথাও আমরা বলে এসেছি।’


