আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচনী দায়িত্বে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে, তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েন করা হচ্ছে।
ভোটের চারদিন আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী দুইদিন মিলিয়ে মোট সাতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।
ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে।’
নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই এখন ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাতদিন দায়িত্ব পালন করবে এবং আনসার বাহিনী থাকবে আটদিন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী অলরেডি মাঠে রয়েছে।
ইসি সচিব আরও জানান, ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মাঠে রাখা হবে। এছাড়া ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বন্ধ হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। অতীতের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।’
এর মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্র ছাড়া লাঠিসহ ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন, যা একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।’
এজন্য নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই ধাপে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম ধাপে যারা বর্তমানে মোতায়েন আছেন, তারা দায়িত্বে থাকবেন।
দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আজ থেকে আগামী সাতদিন দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।


