রাজধানীর কাফরুল এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেলে প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে আহত সাজিদ চৌধুরী রাফি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, ঘটনার দিন রাফিকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তিনি মারা গেছেন।
এর আগে, ৯ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী গলিতে রাফিকে আহত করার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় এক তরুণ রাফিকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। ইটের আঘাতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে অচেতন হয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি তার শরীরের ওপর পড়ে থাকে। পরে ঘাতকরাই রিকশায় করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুন মঙ্গলবার দিনগত রাতে মোটরসাইকেলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন ভুক্তভোগী রাফি। তিনি কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাফির মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করেন দুষ্কৃতকারীরা। এতে তিনি মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে যান। এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামি কালু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ব্যবসা নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় ওই রাস্তায় কালু, পারভেজসহ তার সহযোগীরা আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাফিকে একা দেখে তারা আটকাতে যান। আটকাতে ব্যর্থ হলে একটু সামনে অবস্থান করা পারভেজ ইটের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে রাফি পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে তারা রাফিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান।


