ফেনী জেলায় সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশাসনিক দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকর সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন শুরু থেকেই সুপরিকল্পিত ও কঠোর প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের ভূমিকা কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরপরই ফেনী জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কৌশলগত বৈঠক, সমন্বয় সভা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করে। প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আচরণবিধি তদারকির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস্তুত রাখা হয়।
প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিরোধ ও উত্তেজনা আগেভাগেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রশাসনের বার্তা ছিল স্পষ্ট—আইন সবার জন্য সমান। বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা সংঘর্ষের সুযোগ তৈরি হয়নি। বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অননুমোদিত পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ, মাইকিং নিয়ন্ত্রণ এবং সময়সীমা অতিক্রমের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তায় প্রশাসনের দৃশ্যমান কঠোরতা ছিল লক্ষণীয়। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও আস্থা তৈরি হয়।
ভোটগ্রহণের দিন জেলা কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক সক্রিয় ছিল। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলা প্রশাসক মনিরা হকের সরাসরি তদারকি, প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কার্যক্রম পুরো জেলার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হয়েছে।
ফেনীর তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হন। ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফেনীর এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করেছে। দক্ষ, সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন থাকলে নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা বাস্তব অর্থেই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।


