সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের লোকজন ভারতে বসে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই দেশে আর কোনোদিনই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রোববার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশ থেকে শপথ নিতে হবে যে আমরা কোনোদিনই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে এই দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেব না। আমরা কারও কাছে মাথা নত করব না।’
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের মানুষ এখন নির্বাচনের অপেক্ষা করছে। তারা অপেক্ষা করছে তারেক রহমানেরও। তিনি আসবেন, নেতৃত্ব দেবেন, দেশের মানুষকে পথ দেখাবেন।’
ছাত্রদলের এ সমাবেশ শুরু হয় বেলা ২টার দিকে। শাহবাগ, কাঁটাবন, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, শাহবাগ থানা ও মৎস্য ভবন পর্যন্ত সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে বিভক্তি সৃষ্টির অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘পাশের দেশে আশ্রয় নিয়েছে হাসিনা ও তার দলের লোকজন। সেখান থেকে তারা হুমকি দিচ্ছে। আমাদের শপথ নিতে হবে যে আর কারও কাছেই আমরা মাথা নত করব না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান স্লোগান দিচ্ছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আর এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছাত্রদের। তাদের মেধা আর বুদ্ধিমত্তার চর্চার মাধ্যমে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
এই মুহূর্তে সামনে একটাই লক্ষ্য উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।’
শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত এই সমাবেশ পরিচালনা করছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। কেন্দ্রীয় সভাপতি এতে সভাপতিত্ব করছেন। কর্মসূচিতে জড়ো হয়েছেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।


