জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি করবে না এবং অন্য কাউকে করতে দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রাঘব বোয়াল, গডফাদার, মাফিয়ারা আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে আর যারা ছিঁচকে চোর তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেবেন, এটা চরম অন্যায়। চাঁদাবাজির জড়ে-মূলে হাত দিতে হবে। দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা নিজেরা চাঁদাবাজি করব না, করার প্রশ্নই আসে না; অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।’
বরিশালের মেহেদিগঞ্জের আর সি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
দুর্নীতির মূলোৎপাটনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির জড় কেটে দিতে চাই। আমরা দুর্নীতির পাতা আর ডাল ধরে টান দেব না, আমরা দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেব।’
বিগত সরকারের আমলে দেশের ব্যাংক, বিমা ও মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের টাকা লুট করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বিদেশে পাচার হয়েছে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা, যা চারটি বাজেটের সমান।’
‘লুণ্ঠন ও পাচারের সাথে যারা জড়িত, তারা জীবনেও এই টাকা ফেরত আনতে চাইবে না। আমরা কথা দিচ্ছি, এই টাকা ১৮ কোটি মানুষের টাকা। আমরা চূড়ান্ত লড়াই করব এই টাকা ফেরত আনার জন্য’, যোগ করেন জামায়াত আমির।
‘জামায়াতে ইসলামী কারও বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেবে না’ অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার বিদায়ের পর আমরা ঘোষণা করেছি, দলের পক্ষ থেকে আমরা কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নেব না। তবে শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। আমরা তাদের আইনি সহায়তা দেব।’
‘আমরা বেকার ভাতা দিয়ে কাউকে বেইজ্জত করতে চাই না। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। আর নারী জাতি আমাদের মা। তাদের ইজ্জতের শতভাগ গ্যারান্টি, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না’, বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামী দলের বিজয়ের চেয়ে জনগণের বিজয়কে প্রাধান্য দেয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা এমন এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সরকারি দল ও বিরোধী দলের জন্য আলাদা বিচার হবে না। রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে সবাই একই বিচারের আওতায় আসবে।’
বরিশালের নদী ভাঙন রোধে নদী শাসনের বদলে নদী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন জামায়তের নেতা। তিনি বলেন, ‘নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। বাজেট লুটপাট না করে সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদী সংস্কার করলে ১০ বছরে এই অঞ্চলের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।’
জনসভায় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে বড় মজলুম দল। ‘জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে দলের ১১ শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে’ দাবি করে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীসহ হাজারও কর্মীকে হত্যা ও পাঁচ হাজার সহকর্মীকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ১৩ বছর আমাদের অফিসগুলো বন্ধ ছিল এবং শেষমেশ দল ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
জনসভায় বরিশাল ১ আসনে মাওলানা কামরুল ইসলাম খান, বরিশাল ২ আসনে আব্দুল মান্নান, বরিশাল ৩ আসনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ, বরিশাল ৪ আসনে মাওলানা আব্দুস জব্বার এবং বরিশাল ৬ আসনে মাওলানা মোহাম্মদ মাহমুদুন নবী তালুকদারের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন শফিকুর রহমান।


