নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ
Advertisement
Advertisement

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় মাত্র তিন শতাংশ আসামি সাজা পায়, বিচার শেষে খালাস পেয়ে যায় ৭০ শতাংশ আসামি। এছাড়া ১৩ শতাংশ মামলায় বাদি ও আসামি পক্ষের মধ্যে আপস হয়ে যায়।

সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণায় এ চিত্র পাওয়া গেছে। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক সভায় এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচি।

গবেষণার তথ্যে দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। অভিযোগকারী ও সাক্ষীর অনুপস্থিতি, ঘনঘন সময় প্রার্থনা, তদন্তে বিলম্ব, দুর্বল প্রমাণ ব্যবস্থা এবং সাক্ষী সুরক্ষার অভাব বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত হয়েছে। আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য এ প্রতিবন্ধকতাসমূহের যথাযথ সমাধান না করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এ সময়সীমা কমিয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে।

সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। জাতীয় বাজেটের বরাদ্দের তুলনা করে তিনি জানান, যেখানে শুধু বিটিভির জন্য বরাদ্দ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা, সেখানে পুরো বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। বিচারকদের বেতন, প্রশাসনিক ও অবকাঠামো খরচসহ সীমিত বাজেটে বিচার বিভাগ পরিচালনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন

মন্ত্রী আরও জানান, সরকার বর্তমানে বিদ্যমান ৪০ লাখ মামলাকে কমিয়ে ৪ লাখে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে একটি মামলা থেকে নতুন নতুন শাখা-প্রশাখা তৈরি হওয়ায় মামলার সংখ্যা কমছে না। অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবীরাও মামলা দীর্ঘায়িত করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে হলে মানসিকতা, কাঠামো এবং সক্ষমতা—এই তিনটি খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্‌ বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিশেষ করে নারীরা যদি মনে করেন অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তারা বিচার পাবেন না, তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা থাকবে না। নারী ও শিশুবান্ধব বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ফলাফল নির্ভর কাজের কোনো বিকল্প নেই। কাঙ্ক্ষিত বিচার ব্যবস্থার জন্য সম্মিলিত দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।

একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য বিচার প্রাপ্তির সময় কমানো, ভিক্টিম কেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তোলা, মিথ্যা মামলার জন্য শাস্তির বিধান রাখা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মত দেন আসিফ সালেহ্‌।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad