নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নারী ও শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক চারটি ঘটনায় এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় অটোরিকশার ধাক্কায় মো. আব্দুল্লাহ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল্লাহ ঢালিপাড়া মুন্সিবাড়ি এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চালক সাগর (৩০) বেপরোয়া গতিতে রিকশা চালানোর সময় শিশুটিকে ধাক্কা দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে অনীহা জানানোয় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াসিন আরাফাত।
একই দিন দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ইদ্রিস আলী ব্যাপারী (৪৫) নামের এক নৌকার মাঝির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পাগলা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তিন দিন আগে নৌকা চালানোর সময় তিনি পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
অপর এক ঘটনায় দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার হাজীগঞ্জ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ঋতু আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের স্বামী মাসুম মিয়া শ্বশুরকে ফোন দিয়ে জানায় ঋতু আত্মহত্যা করেছেন। পরে খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই মাস আগে ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন দম্পতি। তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক থেকে তাদের বিয়ে হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল।
নিহতের বাবা মো. কাশেম মিয়া অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ঘরের বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল।’
ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক সঞ্জীব জোয়াদ্দার বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। মাসুমকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
অপরদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার একটি পুকুর থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করেন সাইফা আক্তার (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ।
পুলিশ জানায়, চারটি ঘটনার তদন্ত চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


