নাইজেরিয়ার একটি গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা এবং কয়েকজন নারী ও শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছন রাজ্যের এক আইনপ্রণেতা।
বুক্কুইয়ুম সাউথের প্রতিনিধিত্বকারী আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারুর বরাতে রয়টার্স জানায়, হামলাকারীরা বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তুঙ্গান দুতসে গ্রামে ভয়াবহ হামলা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার পর যারা পালানোর চেষ্টা করে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
ফারু রয়টার্সকে বলেন, ‘তারা (হামলাকারীরা) এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে… অন্তত ৫০ জনকে মৃত অবস্থায় ফেলে রেখে গেছে।’
তিনি আরও জানান, অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুত করতে স্থানীয় নেতারা ও সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
তুঙ্গান দুতসে গ্রামের বাসিন্দা আবদুল্লাহি সানি জানান, হামলায় তার পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল কেউ ঘুমায়নি, আমরা সবাই শোকে কাতর।’
এর একদিন আগেই বাসিন্দারা গ্রামের কাছে দেড়শটিরও বেশি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মহড়া দেখতে পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়েছিলেন। তবে সরকার সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেন সানি।
সম্প্রতি নাইজেরিয়ায় সাধারণ জনগণের নিরাপত্তাহীনতা একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অনেক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নাইজেরিয়ার গ্রামগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা বেড়েছে। তারা উত্তর নাইজেরিয়াজুড়ে প্রাণঘাতী হামলা, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ এবং বহু মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার মতো ঘটনায় জড়িত। তবে দেশটির সরকার বেশিরভাগ হামলাকে তথাকথিত ‘দস্যু’ হামলা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


