বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্তের বিআরএম-৪০ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল খালেক (৩০) উখিয়ার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা এবং মো. আনু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আবদুল খালেক ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেজু আমতলী সীমান্ত এলাকায় একটি আকাশমনি বাগান পরিষ্কার করার কাজে যাচ্ছিলেন। পথে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘুমধুম সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাত ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠি গুলোর যাতায়াতে পথে ও সীমান্তের শুণ্যরেখাসহ বিভিন্ন স্থানে আরাকান আর্মি স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এ সব মাইন বিস্ফরণে প্রতিনিয়ত মানুষ হতাহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এসব মাইনের সঙ্গে আরাকান আর্মি সরাসরি জড়িত।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনো মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করতে স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। বিজিবি নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।”
এর আগে, গত ২ জুন ঘুমধুমের তুইঙ্গাঝিরি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে সতনাইং তঞ্চঙ্গা (১২) নামে এক কিশোর নিহত হয়। এ ছাড়া গত ২৪ মে একই সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন।
বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পর পর স্থলমাইন ও মটার শেল বিস্ফোরণে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


