বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে কড়া নজরদারির ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির জারুলিয়াছড়ি পয়েন্টে আবারও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ এক অভিযানে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
শুক্রবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৪৭/২-এস পয়েন্টের বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডে বিজিবির একটি বিশেষ দল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি জওয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে জারুলিয়াছড়ি বিওপি (সীমান্ত ফাঁড়ি) থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ দূরে তল্লাশি চালিয়ে ১০টি কার্টন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কার্টনগুলো খুলে তার ভেতর থেকে ৯৯ হাজার ৪৪ পিস খয়েরি রঙের এবং ১ হাজার ১টি সবুজ রঙেরসহ সর্বমোট ১ লাখ ৪৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। বিজিবির হিসাব মতে, উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবার বাজার মূল্য তিন কোটি টাকারও বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একজন কর্মকর্তা জানান, বারবার বড় বড় চালান জব্দ করার পরও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পথে ইয়াবা পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় সীমান্তের ওপার থেকে পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে কক্সবাজারের রামু রাবার বাগান পর্যন্ত ইয়াবার চালান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে পরে যান্ত্রিক বাহনে করে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, জারুলিয়াছড়ি-ইচ্ছ্যাবুনিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি-লাইটেরপথ-মনিরঝিল হয়ে রামুর চা ও রাবার বাগান এলাকাটি মাদকপাচারকারীদের জন্য একটি ‘সেফ করিডোর’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ ও জঙ্গলঘেরা এলাকার সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা।
সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সিও লে. কর্নেল ফয়জুল কবির বলেন, ‘আমরা সীমান্তে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও উপুর্যপরি টহলের মাধ্যমে চোরাচালানিদের তথাকথিত সেইফ রুটকে আমরা এখন রিস্কি জোনে পরিণত করতে পেরেছি।’
এদিকে সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, শুধু মাদকের চালান জব্দ করলেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর পেছনে থাকা মূল হোতা, অর্থ লগ্নিকারী ও পরিবহন সমন্বয়কারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।


