নরসিংদীতে ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ক্র্যাব) আয়োজিত মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এই আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় আসামিদের ছবি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় নরসিংদী জেলার এসপি ও মাধবদী থানার ওসির অপসারণের জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান ক্র্যাব সভাপতি।
গত সোমবার সন্ধ্যায় ক্র্যাব আয়োজিত ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠান শেষে বাসে করে ঢাকায় ফেরার পথে সাংবাদিকদের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটে। মূলত চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়, যেখানে আহত হন অন্তত ১২ সাংবাদিক।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা আইজিপি কেউই ক্র্যাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আহতদের দেখতেও যাননি–যা খুবই দুঃখজনক। নরসিংদীতে যারা সাংবাদিকদের হামলা করেছে তারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে।’
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এদের দিয়ে কিছু হবেনা। যে কারণে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না ‘
প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, মধুসূদন মন্ডল, কামরুজ্জামান খান, ক্র্যাবের সাবেক সহ সভাপতি শাহীন আব্দুল বারী, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইকরামুল কবীর টিপু, জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিন হোসেন, ক্র্যাবের সহ–সভাপতি জিয়া খান, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম–বিএসআরএফ সভাপতি মাসুদুল হক, বিএসআরএফ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদল, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ, ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ডিজাব) সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশনের (র্যাক) সভাপতি সাফিউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেনসহ অন্যরা।
সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর পুলিশকে জানানো হলেও তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি।
মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, পুলিশ আন্তরিক হলে বাকি আসামিদের ধরতে এত সময় লাগার কথা নয়।
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আজিজুল হাকিমসহ আরো অনেকে।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ডিআরইউ বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য আলী আজম, ডিআরইউ সাবেক সহ সভাপতি ওসমান গনি বাবুল, ক্র্যাবের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রাজী, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নেহাল হাসনাইন, দফতর সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইমু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান (মাহমুদ সোহেল), আইন ও কল্যাণ সম্পাদক কালিমউল্লাহ্ নয়ন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজান, কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হেনা রাসেল ও মাহবুব আলমসহ অন্যরা।


