নড়াইলে জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালানোর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা গেছে। তবে উদ্ভাবনটি নিয়ে কৌতূহলের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের রাধানগর বাজারে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন দুই ভাই। তাদের নাম- সোহেল শেখ ও জীবন শেখ, যারা পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।
জানা গেছে, প্রায় চার বছর ধরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা মোটরসাইকেলটি গ্যাসচালিত করার চেষ্টা করেন। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে পাইপের মাধ্যমে মডিফাই করা কার্বুরেটরের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ গ্যাসনির্ভর করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বড় আকারের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে মোটরসাইকেল চালানো হলেও, বহনযোগ্য ছোট সিলিন্ডার সংযোজনের প্রস্তুতি শেষ করেছেন তারা। বর্তমানে মোটরসাইকেলের পেছনে সিলিন্ডার বসানো থাকায় দুইজনের বসতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।

উদ্ভাবক দুই ভাই জানান, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো পাম্প বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকেই বিকল্প হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ধারণা আসে তাদের মাথায়।
জীবন শেখ বলেন, গ্যাস ব্যবহার করায় খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পরীক্ষামূলকভাবে মোটরসাইকেল চালানো হচ্ছে, সফল হলে ভবিষ্যতে এটি নিয়মিত ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, গ্যাসচালিত মোটরসাইকেলটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মো. জাবের আলী জানান, রান্নার সিলিন্ডার দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো যেতে পারে, এটা আগে জানা ছিল না। তবে নিরাপদ হলে এটি অনেকের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।
বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে রাধানগর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকেই আগ্রহ নিয়ে মোটরসাইকেলটি দেখতে আসছেন এবং ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও ভাবছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে এভাবে মোটরসাইকেল চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


