ধামাকা শপিংয়ের ৬২ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ

ধামাকা শপিংয়ের ৬২ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ
Advertisement
Advertisement

গ্রাহকের ১১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ধামাকা শপিং–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নামে প্রায় ৬২ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর মধ্যে রয়েছে বনানীতে একটি ৫০ কোটি টাকার বহুতল ভবন এবং গাজীপুরে ১২ কোটি টাকার জমি।

তদন্তে জানা যায়, ধামাকা শপিং বৈধ কোনো নিবন্ধন ছাড়াই ইনভ্যারিয়ান্ট টেলিকমের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হত এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকার লেনদেন চালাত, যার বড় অংশই ছিল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত। কোম্পানির এমডি এস এম ডি জসীম উদ্দিন চিন্তীর নেতৃত্বে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে ।

বৃহস্পতিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জব্দ সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম ডি জসীম উদ্দিন চিন্তীর নামে রাজধানীর বনানী মডেল টাউনের ৩ ও ২/এ নম্বর রোডে অবস্থিত ১৪ নম্বর প্লটে নির্মিত একটি বহুতল ভবন (৫ কাঠা জমি), যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া মাইক্রো ট্রেড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড-এর নামে গাজীপুরের কাশিমপুর পূর্ব বাগাবাড়ী এলাকায় ৪১ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা, সেটিও জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব আল মামুন–এর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর দায়রা জজ আদালত এই সম্পত্তিগুলোর ওপর জব্দের আদেশ প্রদান করেন।

আরও পড়ুন

সিআইডির তদন্তে জানা যায়, ধামাকা শপিং নামীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর এবং সিটি কর্পোরেশন থেকে কোনো বৈধ নিবন্ধন না নিয়েই অবৈধভাবে ইনভ্যারিয়ান্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প মূল্যে পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহক ও সেলারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

ধামাকা শপিং-এর নিজস্ব কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকলেও তারা ইনভ্যারিয়ান্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাউথইস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হিসাব ব্যবহার করে লেনদেন পরিচালনা করত।

সাউথইস্ট ব্যাংকের একটি হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে ধামাকা শপিং–এর ব্যবসা সংক্রান্ত প্রায় ৫৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, অথচ ২০২১ সালের ২৭ জুন হিসাবটিতে মাত্র ৯৩ হাজার ৭৩১ টাকা স্থিতি ছিল, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং আর্থিক জালিয়াতির প্রমাণ করে।

সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ধামাকা শপিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানের এমডি চিন্তীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এমনকি মিকো ট্রেড ফুড অ্যান্ড বেভারেজের একাউন্টেও এসব অর্থ অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয়, যা মানি লন্ডারিংয়ের শামিল।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রাজধানীর বনানী মডেল থানায় ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একটি মামলা (নং- ১৩) করা হয়। আসামিরা বর্তমানে সবাই দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তারা আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছে বলে তদন্তে জানা গেছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের উৎস, গন্তব্য ও ব্যবহার সম্পর্কেও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad