দৌলতদিয়ায় নদীতে বাস: ২ তদন্ত কমিটি

দৌলতদিয়ায় নদীতে বাস: ২ তদন্ত কমিটি
উদ্ধার করা হয় নদীতে পড়ে যাওয়া বাস। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক এই কমিটি দুটি গঠন করে।

শুক্রবার বিকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিমের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকবেন। এর বাইরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া সাত নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। বাসটির ‘জাহাঙ্গীর’ নামের ফেরিতে ওঠার কথা ছিল। তবে ফেরিতে না উঠে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির ডালায় (র‍্যাম্প) প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে। আঘাতের তীব্রতায় ফেরির ডালা ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে সম্পূর্ণ ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে এসে ডুবুরি দলের সহায়তায় নদী থেকে দ্রুত বাসটি তুলে আনে। বর্তমানে ঘাটটি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চলছে। বাসের ভেতরে থাকা চালক ও হেলপারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা আশঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন

প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘আজকে আমরা অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছি। এজন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। বাসে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। তারা আগেই বাস থেকে নেমে যান। কেবল চালক ও হেলপার বাসে ছিলেন। তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। বাসটি উদ্ধারের পরেও তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা স্মরণ করে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতবারের একটি দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ফেরিতে বাস ওঠার আগে ও পরে সব যাত্রীকে অবশ্যই নামাতে হবে। বাসে বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ ও শিশু থাকে। তাদের নামানো কষ্টের হলেও আমরা এটি শতভাগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলায় এত বড় দুর্ঘটনা থেকেও ৩৭টি প্রাণ বেঁচে গেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদুল আজহার আগে মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পুলিশ ও জেলা প্রশাসন দিনরাত কাজ করছে।’ প্রতিমন্ত্রী সবাইকে সরকারি নিয়ম মেনে ঝুঁকিমুক্তভাবে যাতায়াতের আহ্বান জানান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad