রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পেছনে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বেশ কিছু কারণ ছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে।
উছেন মে বলেন, ‘আমরা প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্যসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্ত সঠিকভাবে করার স্বার্থে আমরা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা বলেছি।’
তদন্তে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। এ ছাড়া, ফেরিঘাটের পন্টুনে রেলিং, অ্যাপ্রোচ সড়ক উন্নয়ন, ঘাট আধুনিকায়নসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনার কারণ ও আগামীতে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করেছি।’ এর বেশি কিছু বলতে চাননি তদন্ত কমিটির প্রধান।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। তদন্ত কমিটির দল প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনটি আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করব। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ২৫ মার্চ বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মায় ডুবে যায়। এ ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার তদন্ত অনুসন্ধানে ওইদিন রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মেকে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ ছাড়া, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে ছয় সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


