রাজধানীর মধ্য বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ব্যবসায়ী কামরুল আহসান সাধনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুদারাঘাট ৪ নম্বর গলিতে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে কামরুল আহসান সাধন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।’
ওসি আরও জানান, নিহত সাধন ছিলেন গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পেশায় ডিশ ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, গুলিতে গুরুতর আহত সাধনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুজন হেঁটে এসে সাধনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তিন সেকেন্ড সময়ের মধ্যে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি করে সামনের দিকে হেঁটে যায়। কেউ তাদের বাধা দেওয়ার সুযোগ পাননি।
স্বজনরা জানান, গুদারাঘাটের ৪ নম্বর রোডে সাবেক কমিশনার কাইয়ুমের কার্যালয়ের উল্টো দিকে একটি চায়ের দোকান আছে। সেখানে গলির মুখে স্থানীয় বিএনপি নেতা কাইয়ুমের ভাগ্নে কামরুল ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে চেয়ার পেতে সাধন বসেছিলেন। এ সময় মাস্ক পরা দুজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ সেখানে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে বিএনপি নেতা সাধন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ সাধনকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের বুক, পিঠ ও ঘাড়ে গুলির আঘাত রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসার বিরোধ অথবা রাজনৈতিক কোন্দলে এ হত্যার ঘটনা বলেই ধারণা পুলিশের। অপরাধীদের শনাক্তে রাতেই কাজ শুরু করেছে গুলশান ও বাড্ডা থানা পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থলে একাধিক গোয়েন্দা টিমকে দেখা গেছে।


