দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় খালাস পেলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গয়েশ্বর চন্দ্রের মালিকানাধীন রায়ের বাজারের একটি ছয়তলা বাড়ির নির্মাণ ব্যয় ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং কেরাণীগঞ্জে তার পৈত্রিক জমিতে বাড়ির নির্মাণ ব্যয় ১৫ লাখ চার হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।
তবে গণপূর্ত বিভাগের তদন্তে দুটি বাড়িতে ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ টাকা অতিরিক্ত নির্মাণ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়, যা গয়েশ্বরের গোপনকৃত এবং জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ। এছাড়া বিএনপির এই শীর্ষস্থানীয় নেতার বাসায় ৫৮ হাজার ৬০০ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী পাওয়া যায়। এগুলোও গয়েশ্বর চন্দ্রের ঘোষণা ও জ্ঞাতআয় বহির্ভূত বলে জানায় গণপূর্ত বিভাগ।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ২০০৪-২০০৫ সালে ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে মের্সাস আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও রেজা কনট্রাকশন লিমিটেড নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা নেন যা তার অবৈধ অর্জন।
বাড়ি নির্মাণ, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তার অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০৫ টাকা।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক এস.এস মফিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৫ জুলাই তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর তৎকালীন বিচারক মোজাম্মেল হোসেন। মামলার বিচার চলাকালে অভিযোগপত্রে থাকা ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।


