পেস ফ্রেন্ডলি হিসেবে আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের বেশ সুনামই আছে। তবে যদি সেরা পাঁচ বোলারের তালিকা দেখতে যান, খুঁজে পাবেন তিনজন স্পিনারকে। অবশ্য পরিসংখ্যানই শেষ কথা নয়। ফ্লাডলাইটের নিচে এই মাঠের উইকেট থেকে পেসাররা সুবিধা পেয়ে আসছেন দীর্ঘদিন থেকেই। ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়ার সাথে সাথে সিম মুভমেন্ট কমে আসে, ভরসা করতে হয় ভেরিয়েশনের ওপর। তাই স্লোয়ার, বাউন্সারই হয়ে ওঠে পেসারদের মোক্ষম অস্ত্র।
বৃহস্পতিবার হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশের পেসার তানজিম হাসান সাকিবও একই প্যাটার্ন ধরে বল করে গেছেন, সাফল্য পেয়েছেন, আটকে রেখেছেন হংকংয়ের রানের চাকা। তার দারুণ বোলিংয়ের সাথে তাসকিন আহমেদ-রিশাদ হোসেনদের পারফরম্যান্সে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান তুলেছে হংকং। অবশ্য এই রানটুকুও হতো না তাদের, যদি না মাঝে দুটো চল্লিশ পেরোনো জুটির দেখা তারা পেত।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরতেই খেই হারায় হংকং। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন ওপেনার আনশি রাথ। পরের ওভারে এসেই তানজিম দেখান তার ভেলকি। শুরুটা করেছিলেন ১৩৮ কিলো/ঘণ্টার দারুণ এক লেংথ ডেলিভারিতে। পরের পাঁচটা বলও ছিল একই লেন্থে। দ্বিতীয় ওভারে ফিরে বাবর হায়াতের কাছে একটা ছক্কা খেলেও পরের বলেই দারুণ এক ইয়র্কারে উপড়ে দেন স্টাম্প। সেই ওভারেই নিজের সেরা বোলিংটা করেছেন তানজিম, নিয়েছেন উইকেট মেইডেন।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেও পেয়েছেন সাফল্য, ওপেনার জিশান আলীকে ফিরিয়ে। খানিকটা এক্সট্রা বাউন্সের জাদুতে এলোমেলো হয়ে যায় তার শট সিলেকশন। ক্রস ব্যাটেড শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন মিড উইকেটে। পেছন দিকে দৌড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন মোস্তাফিজ। ৪ ওভার বল করে তানজিম ডটই পেয়েছেন ১৫টি। এক মেইডেন-সহ মাত্র ২১ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।
অবশ্য তানজিমের দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের পরেও মিডল অর্ডারে বড় দুটি জুটি পেয়েছে হংকং। তৃতীয় উইকেট জুটিতে নিজাকাত খানের সাথে জিশানের ৪১ ও চতুর্থ উইকেটে ইয়াসিম মুর্তাজার ৪৬ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে আইসিসির সহযোগী সদস্য এই দেশটি। ইনিংসের সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ। ৪ ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। অবশ্য নিজের শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত উইকেট শুন্যই ছিলেন তিনি। নিজের শেষ ওভারের শেষ দুই বলে নিয়েছেন নিজাকাত ও কিঞ্চিতের উইকেট।
ইনিংসের শেষ ওভার করতে এসে নিজের দ্বিতীয় উইকেটের দেখাও পেয়েছেন তাসকিন। তার স্লোয়ারে তুলে মারতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন আইজাজ খান। প্রায় মাইলখানেক ওপরে ওঠা সেই বল ধীরেসুস্থে ক্যাচ ধরেছেন জাকের।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন নিজাকাত। ২৮ রানের ইনিংস এসেছে অধিনায়ক ইয়াসিমের ব্যাট থেকে, ওপেনার জিশান ফিরেছেন ৩০ রান করে।


