চলতি রমজানে দিনাজপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর রীতিমতো উত্তাপ ছড়াচ্ছে। জেলায় ইফতারের অতিপ্রয়োজনীয় ছোলা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের চাল-ডাল, সবজি কিংবা মাংস সবকিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের একটা বড় অংশই দুশ্চিন্তায় দিশেহারা।
বুধবার দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার ও চক বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ৮০ টাকার ছোলা দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকায়। লেবুর হালির দাম দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বিভিন্ন খেজুরের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বেগুন ও শসার দামও ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে কেজিতে ৮০ টাকা।
মধ্যবিত্তের ভরসা ব্রয়লার মুরগিও এখন ১৮০ টাকা কেজি। আর গরুর মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৭৫০ টাকায় পৌঁছেছে। সাধারণের এখন তা বিলাসিতা মাত্র।
বাজার করতে আসা নূর নাহার বেগম ও তরিকুল ইসলামের মতো সাধারণ মানুষের কন্ঠে অসহায়ত্বের সুর।
আয় না বাড়লেও ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এক চরম পরীক্ষা বলছেন তারা।
ক্ষোভ উগরে দিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে হারে দাম বেড়েছে, তাতে পরিবারের সদস্যদের ইফতারের প্লেটে টান পড়বে।’
যদিও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, তারা নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে, তবে সাধারণ মানুষ আরও জোরালো নজরদারির দাবি জানান। ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই কৃত্রিম সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
সংযমের এ মাসে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পণবন্দী করে ফেলছে।
দিনাজপুরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসন কেবল জরিমানা নয়, সরবরাহ ব্যবস্থার শেকড়ে গিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ব্যবস্থা করবে এবং রমজানের বাকি দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।


