দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর নিজের অবস্থান নতুন করে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানান, কখনোই তিনি তৃণমূলপন্থী ছিলেন না।
এক সাক্ষাৎকারে সুমন বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন এবং অতীতেও ছিলেন না। তার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই শিল্পী। তার ভাষ্য, ভোটের সময়কার পরিস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক। হঠাৎ করে সামরিক বাহিনী মোতায়েন কিংবা ট্যাংক নামানোর মতো ঘটনা তিনি আগে কল্পনাও করেননি।
তৃণমূলের পরাজয়ের নির্দিষ্ট কারণ না বললেও একাধিক ত্রুটির ইঙ্গিত দেন সুমন। বিশেষ করে চাকরি খাতে ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রটি ‘ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ নিয়েও তার মন্তব্য ছিল মিশ্র। কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা বললেও সরকারের কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মমতার ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে পারে।
নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে সুমন আশা প্রকাশ করেন, আগের মতোই নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। তার মতে, সিপিএম ও তৃণমূল—দুই আমলেই এই বিষয়টি মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল।
সবশেষে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেন সুমন। তিনি জানান, এখন ভোট হলে তৃণমূলকেই সমর্থন দেবেন। তবে শক্তিশালী কোনো কমিউনিস্ট শক্তি সামনে এলে তাদের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার আগ্রহ আছে তার—এমনকি তাদের জন্য গান লেখার কথাও বলেন তিনি।


