রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহ ইউক্রেনে কোনো হামলা চলাবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, তীব্র শীতের কারণে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ অন্য শহর ও জনপদে হামলা না করতে মস্কো মৌখিকভাবে রাজি হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কিয়েভ ও বিভিন্ন শহরে এক সপ্তাহের জন্য গুলি না চালাতে অনুরোধ করেছি এবং তিনি তাতে রাজি হয়েছেন।’
‘এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। অনেকে আমাকে বলেছিলেন, পুতিনকে কল করে লাভ নেই, আমি তাকে রাজি করাতে পারব না। কিন্তু তিনি আমার কথা রেখেছেন’, যোগ করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা “প্রায় বিশ্বাসই” করতে পারেনি, কিন্তু তারা খুব খুশি হয়েছে, কারণ তারা খুব কঠিন অবস্থার মধ্যে আছে।’
তার এই বৈঠকের পরপরই বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘চরম শীতের এই সময়ে “কিয়েভ ও অন্যান্য ইউক্রেনীয় শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা” নিয়ে ট্রাম্প একটি “গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য” দিয়েছেন।’
তবে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো চুক্তির কথা নিশ্চিত না করলেও, ট্রাম্পের আশ্বাসকেই বিশ্বাস করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা করেন- রাশিয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে। অবশ্য কবে থেকে এই বিরতি কার্যকর হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিও বাস্তবায়িত হবে।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থানীয় সময়য় বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কিয়েভে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা মাইনাস ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (মাইনাস ১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) নেমে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া সাধারণত শীতের সময়গুলোতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করে এসেছে। এবারের শীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এ বছর রাশিয়াও তীব্র শীত ও তুষারপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মস্কো হামলা বন্ধ রাখতে রাজি হওয়ায় কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে নিজেদের হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বহুল প্রতীক্ষিত এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সব পক্ষই যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাকে গঠনমূলক বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে ইউক্রেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা বন্ধের মৌখিক ঘোষণা এলেও এখনো ইউক্রেনজুড়ে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে ইউক্রেনের বড় বড় শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও শীতের মধ্যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সুবিধা ছাড়া থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো সংযোগ প্রতিস্থাপনে মেরামত শুরু করতে না করতেই ফের রুশ বিমান হামলায় সব যন্ত্রপাতি দ্রুতই আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


