তামাকপণ্যের করকাঠামো কার্যকরভাবে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এক আলোচনা সভায় তারা বলেন, তামাকপণ্যের করকাঠামো সংস্কার হলে ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হবে। পাশাপাশি কমবে তামাকপণ্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে যৌথভাবে এ আলোচনা সভা আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রগতির জন্য জ্ঞান’ (প্রজ্ঞা) এবং ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স’ (আত্মা)। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী।
বিশেষজ্ঞরা সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রচলন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারা সিগারেটের বিদ্যমান নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। এছাড়া উচ্চ স্তরের মূল্য ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য ২০০ টাকা বা তার বেশি করার সুপারিশ করা হয়। বক্তারা বর্তমানের ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের দাবি জানান।
এছাড়া বিড়ি, জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রেও মূল্য ও করহার সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২০ শলাকার ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে ১০ গ্রাম ওজনের পণ্যের মূল্য যথাক্রমে ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং সকল তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন ও কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ।


