মাহিশ থিকশানার অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা ফুল লেংথ বল, জায়গায় দাঁড়িয়ে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে তানজিদ তামিমের লফটেড ড্রাইভ। দারুণ এক ছক্কা। এরপর আরো পাঁচবার সীমানা ছাড়া করেছেন বল। শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি-টোয়েন্টিতে এরপর আরো পাঁচটা ছক্কা মারলেও থিকশানাকে মারা ছক্কাটাই হয়ে রইল তানজিদের ব্যাটিং হাইলাইটস। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই বাঁহাতি ওপেনারের ৪৭ বলে ৭৩* রানের দারুণ এক ইনিংসে শ্রীলংকার ১৩২ রান ২১ বল হাতে রেখেই টপকে গেল বাংলাদেশ। ৮ উইকেটের এই ইতিহাস গড়া জয়ে প্রথমবার শ্রীলংকার মাটিতে ও তাদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
ইতিহাস রচনার শুরুটা করেছেন শেখ মাহেদী। তার স্পিন জাদুতে ৭০ রানের আগেই প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারায় শ্রীলংকা। সেই ধ্বংসস্তুপ থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি লংকানরা। ১৩২ রানেই থামে তাদের ইনিংসে। বাংলাদেশকেও এই লক্ষ্য টপকাতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। লিটন-তানজিদ ও তানজিদ-হৃদয়ের ৭৪ ও ৫৯ রানের দুটো জুটিতেই হয়ে যায় কর্মসাধন। যদিও ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরেছেন ওপেনার পারভেজ ইমন। নুয়ান থুসারার বলে তার বিদায়ের প্রভাবও একেবারেই পড়েনি দলের ব্যাটিংয়ে।
আগের ম্যাচে ৫০ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হওয়া লিটন এই ম্যাচেও উইকেটে সেট হয়েছেন। লো স্কোরিং ম্যাচ হওয়াতে এক প্রান্তে দেখেশুনেই খেলেছেন। তবে অন্যপ্রান্তে তানজিদ খেলেছেন হাত খুলে। সপ্তম ওভারে চারিথ আসালাংকাকে পেয়ে তার প্রথম বলেই মেরেছেন দারুণ এক ছক্কা। এক বল পর আবারও স্লটে বল পেয়ে ফ্রন্ট লেগ ক্লিয়ার করে লং অন দিয়ে মেরেছেন দ্বিতীয় ছক্কা।
পরের দুটো ছক্কা জুটেছে জেফ্রি ভ্যান্ডারসের কপালে। স্লটে পড়া বল, লং হ্যান্ডেলের গ্রিপে তানজিদের দারুণ হিটে বলের ঠিকানা কাউ কর্নার আর লং অন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফিফটির আগ পর্যন্ত তানজিদ রান সব তুলেছেন ছক্কা আর সিংগেল-ডাবলসে। কিন্ত ২৭ বলে টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম ফিফটিটা পেয়েছেন আউট সাইড এজে চার মেরে। অবশ্য লিটন ফিরেছেন কামিন্দু মেন্ডিসের বলে সুইপ করে। শটটা ঠিকঠাকই খেলেছিলেন, কিন্তু লফটেড সুইপে যথেষ্ট পাওয়ার না থাকায় ডিপ স্কয়ার লেগে খুঁজে পায় কুশাল পেরেরার হাত। ৪৮ বলে ৫৯ রানের জুটিতে ম্যাচ শেষ করেছেন তানজিদ-হৃদয় জুটি। ৪৭ বলে ১ চার ও ৬ ছক্কায় ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ, উইনিং শট নেয়া হৃদয় মাঠ ছেড়েছেন ২৫ বলে ২৭* রানে।
এর আগে শেখ মাহেদীর স্পিন জাদুতে এলোমেলো হয়ে পড়ে শ্রীলংকার ব্যাটিং অর্ডার। ৪ ওভার বলে করে মাত্র ১১ রানে নেন ৪ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের স্পেলে ডটই দিয়েছেন ১৭টা। অথচ প্রথম দুই ম্যাচে বসেছিলেন সাইডবেঞ্চে, একাদশে জায়গা হয়নি টিম কম্বিনেশনের কারণে। আজ মেহেদী হাসান মিরাজকে বসিয়ে তার অন্তর্ভুক্তিই বদলে দিল ম্যাচের ভাগ্য৷ শ্রীলংকার প্রথম ৫ উইকেটের ৪টিই নিয়েছেন এই অফস্পিনার।
অবশ্য মাহেদীর স্পিন জাদুর ম্যাচে এলোমেলো বল করেছেন শরীফুল ইসলাম। প্রথম ওভারে ১৪ রান দিয়ে এক উইকেট পেলেও ইনিংসের শেষ ওভারে দাসুন শানাকার কাছে খেয়েছেন বেধড়ক পিটুনি। দুই ছক্কা, দুই চারে দিয়েছেন ২২ রান, যা ইনিংসেরই সবচেয়ে খরুচে ওভার। অবশ্য শেষ ওভারে শরীফুল স্লোয়ার দিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষার নামে উদারতা না দেখালে ১৩০ পেরোত না লংকার সংগ্রহ সেটা বলাই যায়।
কারণ ১৯ তম ওভার পর্যন্ত লংকানদের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে মাত্র ১১০। ডেথ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান যেভাবে চাপে রেখেছিলেন শানাকাদের, ব্যাটে-বলে করতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন তারা। শরীফুলের শেষ ওভারটা বাদ দিলে ইনিংসজুড়ে দাপট ছিল বাংলাদেশেরই। রিশাদ উইকেট না পেলেও মাত্র ২০ রান দিয়েছেন। শামীম হোসেন দুই ওভার করে ১০ রানে পেয়েছেন কামিন্দু মেন্ডিসের উইকেট। তানজিম সাকিবের কোটার দুই ওভার বাকি থাকলেও লিটন তাকে আর আক্রমণে আনেননি ২৩ রান দেয়াতে।


