ঘড়ির কাঁটায় তখন প্রায় সন্ধ্যা, পৌষের কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা। কিন্তু কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের উজ্জ্বল আলো আর গ্যালারির দর্শকদের উন্মাদনা যেন মুহূর্তেই শৈতপ্রবাহের তীব্রতাকে ম্লান করে দিল। লম্বা সময় অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরল নারী ফুটবল লিগ। আর উদ্বোধনী ম্যাচেই সানজিদা-সাগরিকাদের মতো তারকাখচিত পুলিশ এফসি-কে হারিয়ে চমক দেখাল সেনাবাহিনী।
সোমবার লিগের প্রথম ম্যাচে পুলিশ এফসি-র বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সেনাবাহিনী। দলের জয়ের নায়িকা তনিমা বিশ্বাস, যার পা থেকে এল জোড়া গোল। অভিজ্ঞ আর তারকায় ঠাসা পুলিশের বিপক্ষে জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে সেনাবাহিনীর ৯ জন অনূর্ধ্ব-২০ বয়সভিত্তিক দলের ফুটবলার। তারুণ্যের এই উদ্যমই দিনশেষে ব্যবধান গড়ে দিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াই ছিল দেখার মতো। ১২ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ পেয়েছিল পুলিশ এফসি। বাম দিক থেকে আক্রমণে উঠে বক্সে বল পেয়েছিলেন সাগরিকা, কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে তার নেওয়া শটটি দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন মিলি আক্তার। প্রথমার্ধের অনেকটা সময় বল মাঝমাঠেই ঘুরপাক খেয়েছে। তবে ৪০ মিনিটে গ্যালারিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন তনিমা বিশ্বাস। বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া এক অবিশ্বাস্য শট পুলিশের গোলরক্ষক তাসলিমাকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেনাবাহিনী।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ এফসি। ৫৬ মিনিটে সাবিনা খাতুন রুবির একটি চিপ শট রক্ষণভাগে লেগে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু গোললাইন থেকে দারুণ ক্ষিপ্রতায় তা ক্লিয়ার করেন রুমা আক্তার। পুলিশের একের পর এক আক্রমণ সামলে ৭০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে যায় সেনাবাহিনী। সুলতানার নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করেন তনিমা। দ্বিতীয় গোলটি হজম করার পর আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি পুলিশের।
১১ দলের এই টুর্নামেন্টে এবার নতুন চার দল পুলিশ এফসি, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বিকেএসপি এবং রাজশাহী স্টার্স ফুটবল ক্লাব অংশ নিচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য রয়েছে ৪ লাখ টাকার পুরস্কার। তবে প্রথম দিনের জয় শেষে মাঠ ছাড়ার সময় সেনাবাহিনীর মেয়েদের মুখে যে তৃপ্তির হাসি দেখা গেল, তা যেন যেকোনো পুরস্কারের চেয়েও দামী।


