ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি

ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি
Advertisement
Advertisement

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ এবং শিক্ষার্থীদের ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত আরেক শিক্ষককেও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ নানা অভিযোগ এনেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌননিপীড়নের অভিযোগের ‘সত্যতা মেলায়’ তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি, যা সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে গতবছরের ১৩ নভেম্বর রাজধানীর শেওরাপাড়ার নিজ বাসা থেকে পুলিশ আটক করে। শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মো. এরশাদ হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত এখন ট্রাইবুন্যালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতিবিরোধী কাজ বা গুরুতর অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই ট্রাইবুন্যাল গঠিত হয়।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের সময় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত গোলাম রব্বানীর ছাত্রত্ব না থাকায় তার ডাকসুর পদও বাতিল করার সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপ-উপাচার্য।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল এবং একইসঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল একাডেমিক কাউন্সিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad