ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হলে সাবেক শিক্ষার্থী দম্পতিকে হেনস্তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নারী শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে ওই হল মাঠে দল বেঁধে খেলা দেখেছেন একদল নারী শিক্ষার্থী।

রোববার সকালে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ দেখতে শহীদুল্লাহ হল মাঠে জড়ো হন তারা। এ সময় অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

খেলা দেখার পর তিন দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রমাগত নারীবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রমাগত নারীবিদ্বেষী যে কর্মকাণ্ডগুলো শিক্ষার্থীদের দ্বারা হচ্ছে সেটির প্রতিবাদে সকালে আমরা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে বিভিন্ন হলের নারী শিক্ষার্থীরা মিলে খেলা দেখেছি এবং খেলা শেষে প্রক্টর স্যারের কাছে আমাদের বেশ কিছু দাবি পেশ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করছি ঢাবি এখন আর নারীবান্ধব নেই। নারীদের বিচরণ ও চলাফেরাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য এবং তাদের অংশগ্রহণ সংকুচিত করার জন্য একটি গোষ্ঠীর বিভিন্ন পায়তারা চলছে।’

আরও পড়ুন

রাত্রি বলেন, ‘প্রক্টর স্যার আমাদের কাছে কিছু সময় চেয়েছেন এবং বলেছেন তিনি বিষয়টি দেখবেন। আমরাও বলেছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের কোনো অবস্থান না থাকায় ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ‘গত দুইদিন ধরে নারী হেনস্তার ঘটনা নিয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করছি, গতকাল রাতে আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে কিন্তু ডাকসু ভিপির এ বিষয়ে কোনো ধরনের স্ট্যান্ড আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাইনি।’

‘যারা এই হ্যারেসমেন্টগুলো করেছে তাদের সঙ্গে ডাকসু ভিপির খুব কাছের ছবি আমরা দেখতে পেয়েছি। সুতরাং তাদের কাছে আমাদের কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দাঁড়িয়েছি। আশা করি প্রশাসন অভিযুক্তদের আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করবে।’

হেমা চাকমা বলেন, ‘ঢাবির বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যেখানে ডাকসুর স্টেটমেন্ট আসে কিন্তু হল সংসদের প্রতিনিধি যখন এমন মন্তব্য বা হ্যারেসমেন্ট করে তখন ডাকসুর কোনো স্টেটমেন্ট আসে না। আমি নিজেও ডাকসুর একজন সদস্য কিন্তু ডাকসুর স্টেটমেন্টের ব্যাপারে হয়তো একজন বা দুইজন জানে। ডাকসুর এই সমন্বয়হীনতা এটাই প্রমাণ করে যে তারা কোনো কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না বরং এটা একপাক্ষিক এবং যারা সর্বাধিক ভোটে জয়ী হয়েছে তাদের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে।’

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নারী হেনস্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। ক্যাম্পাসে নারী হয়রানি, অনলাইন হেনস্তা, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও আবাসিক পরিসরে এমন কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা, যা নারীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে বা তাদের চলাচল ও অংশগ্রহণকে অযৌক্তিকভাবে সীমাবদ্ধ করে।

এর আগে, গত ২৬ জুন ‘নরওয়ে বনাম ফ্রান্স’ ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২০১৭ -১৮ সেশনের মার্কেটিং বিভাগের শাওন-নুসরাত দম্পতি সহ ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬জন সাবেক শিক্ষার্থী হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন । অভিযোগ উঠেছে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো সাজু মিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই সাবেক শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে নানা সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad