ঢাকা শহরের ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল ও বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
‘নতুন বাংলাদেশ: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছরের ওপর পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
সোমবার দুপুরে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন পরবর্তী সময় থেকে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজি, উদ্দেশ্যমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। দল থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী এসব কাজের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন স্থানে হাট-বাজার, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বালুমহাল এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা জোর করে দখল করা। কেবল ঢাকা শহরের ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। প্রতিমাসে যা দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। কখনো আবার বেড়ে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।
টিআইবি বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেটে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কোয়ারি ও নদ-নদীগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। তারা হাজার হাজার শ্রমিক দিয়ে ১০ মাসে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার পাথর লুট করেছেন। তবে ওই এলাকাকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা এবং পাথর উত্তোলন বন্ধ করায় পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে আন্দোলন করা হয়। এই আন্দোলনে জামায়াত ও এনসিপির নেতাদেরও সম্পৃক্ততা ছিল।
টিআইবি বলছে, দেশের বিভিন্ন এলাকার ইটভাটা, নৌঘাট, ফুটপাত, মাছের বাজার, ব্যবসায়ী, দোকানদার ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকেও জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এমনকি চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজেও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।
প্রতিবেদন বলা হয়, নির্বাচন নিয়ে অন্তবর্তি সরকারের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি নেই। কর্মসংস্থান আশানুরুপ হয়নি, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলো দখল, চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চলমান। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও নিশ্চিত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোন মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের সংস্কৃতি চলমান। রাজনৈতিক দলগুলোতে কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি।’
‘৫ আগস্ট–পরবর্তী রাজনৈতিক যাত্রা অশুভ ছিল। ওই দিন বিকেল থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের একাংশ দলবাজি, চাঁদাবাজি, মামলা, বাণিজ্য শুরু করে। গত এক বছর ধরে তা আরও বেড়েছে। এমনকি দলের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নিয়েও এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।‘


